সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
সমর বিকাশ চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি
বিশ্বশান্তির প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বনবিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ উপলক্ষে দীঘিনালা বনবিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নর-নারী বিহারে সমবেত হন। পরে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও মহাসংঘদানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা বনবিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির সভাপতি বিধুর্ব রঞ্জন চাকমা।
অনুষ্ঠানে নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের আত্মার সদগতি কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গত মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষু সংঘকে মধু ও বিভিন্ন দানসামগ্রী প্রদান করেন। ধর্মীয় আলোচনায় মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য, দান, শীল, মৈত্রী, করুণা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।
প্রধান ধর্মীয় আলোচক নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় দিন। এদিন দান ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি সকলকে মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে জীবজগতের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দুর্গত মানুষের কল্যাণ এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
এছাড়া বিকেলে মাসব্যাপী পাট্ঠান পাঠের সুত্র সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, এবং শত শত ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকা অংশগ্রহণ করেন।